ফেসবুক নাকি ইউটিউব কোনটি আয় বেশি জেনে নিন

ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে ফেসবুক ও ইউটিউব দুটি নামই এখন বেশ পরিচিত। আর সাথে এখানে ইনকামের সুযোগ থাকায় এই দুই মাধ্যমে ক্রিয়েটরদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।

ফেসবুক-নাকি-ইউটিউব-কোনটি-আয় -বেশি- বিস্তারিত জেনে নিন

তবে অনলাইন ভিত্তিক স্ট্রিমিং এর ক্ষেত্রে ফেসবুক থেকে পুরনো মাধ্যম ইউটিউব ।এই দুই জায়গার কোনটিতে ইনকাম বেশি তা নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই ।মনিটাইজেশন এর মাধ্যমে ফেসবুক ও ইউটিউব দুই জায়গা থেকেই ভালো টাকা আয়  করা যায়। তবুও ক্রিয়েটরদের মধ্যে কেউ ফেসবুক আবার কেউ ইউটিউব কে বেশি গুরুত্ব দেন। ইউটিউবে নানান বিষয়ে কন্টেন্ট আপলোড করা হয় যার  নজর কাড়ে  মানুষের।

পেজ সূচিপত্রঃ ফেসবুক নাকি ইউটিউব কোনটির আয় বেশি  

ফেসবুক নাকি ইউটিউব কোনটি আয়  বেশি 

ফেসবুক এবং ইউটিউব ব্যবহারকারীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট ক্রিয়েশন এর মাধ্যমে টাকা আয় করে থাকেন অনেকে। যে সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। এক্ষেত্রে দুই প্লাটফর্মে ভিডিওর সংখ্যা সব থেকে বেশি  ইউটিউবএবং ফেসবুক ।ইউটিউব এর মালিক হলো গুগল । সেখানে ফেসবুকের কার্যভার রয়েছে মেটার দখলে। কিন্তু দুই প্লাটফর্মের মধ্যে কোন জায়গা থেকে সব থেকে বেশি টাকা আয় করা যায় সে সম্পর্কেও জানার আগ্রহ রয়েছে মানুষের ভেতরে। কোন কোন কনটেন্ট নির্মাতা ইউটিউব এবং ফেসবুক থেকে মাসে লাখ টাকার বেশি উপার্জন করছেন ।ইউটিউব সাবস্ক্রাইব এর সংখ্যা বাড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ।সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য অনেকে মজাদার ভিডিও তৈরি করেন ইউটিউব ।ইউটিউব থেকে টাকা আয় এর ক্ষেত্রে সবার আগে প্রয়োজন ইউটিউব চ্যানেল খোলা।

আরও পড়ুনঃ ঘরে বসেই ডাচ-বাংলা ব্যাংক একাউন্ট খুলুন খুব সহজ উপায়ে 

আর ফেসবুক থেকে টাকা আয় এর ক্ষেত্রে সবার আগে প্রয়োজন ফেসবুকে পেজ খোলা। ইউটিউবের ক্ষেত্রে প্রথমে একটি চ্যানেল তৈরি করতে হয়, জিমেইল ব্যবহার করে ইউটিউবে লগইন করে চ্যানেল তৈরি করা যায়। ফেসবুকের নিজস্ব একটি পেজ তৈরি করতে হয়। যেখানে আপনার কনটেন্ট গুলো প্রদর্শিত হবে, যে চ্যানেলে তৈরি করা হোক না কেন সেখানে সক্রিয়তা থাকতে হবে। অন্যরা যেন সেই চ্যানেলটিকে আলাদা করতে পারে। যেসব কন্টেন্ট আপলোড করা হচ্ছে সেটা নিয়ে যেন কপিরাইটের কোন ঝামেলা না থাকে। কারণ কপিরাইট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পুরো চ্যানেলটি বাতিল হয়ে যেতে পারে,বাছাই করার ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখতে হবে যেন সেটা ব্যতিক্রমী আলাদা ধরনের কিছু হয়। কারণ এখন অসংখ্য মানুষ ইউটিউব এবং ফেসবুকে কনটেন্ট তৈরি করছেন প্রতিযোগিতা অনেক, যেখানে ব্যতিক্রমী কিছু না হলে মানুষ আগ্রহী নাও হতে পারে।

নিয়মিত কন্টেন্ট আপলোড করতে হবে

ধারাবাহিকতা থাকতে হবে, টার্গেট থাকা উচিত। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একটি ভিডিও আপলোড করা। এজন্য যেমন শিক্ষামূলক পাতা, প্রযুক্তি সম্পর্কে নানা তথ্য , মজাদার ভিডিও , গেম নিয়ে ভিডিও , খাওয়া-দাওয়া , বই বা চলচ্চিত্রের রিভিউ ইত্যাদি তৈরি করা। ভিডিও গুলো হতে হবে পরিষ্কার, শব্দ ভালোভাবে শোনা যাবে , সম্পাদনার কাজটি ভালো হতে হবে। সেই সাথে টাইটেল ,নানা ধরনের শব্দের ব্যবহার ঠিক থাকতে হবে। তবে ফেসবুক এবং ইউটিউব যে মাধ্যমের  জন্যই কনটেন্ট তৈরি করা হোক না কেন সেগুলো। যেগুলো অন্য কারো কপিরাইট থাকতে পারবেনা।ফেসবুক এবং ইউটিউব কোন ভিডিও আপলোড করলে সেটা থেকে টাকা আসবে না ।সেজন্য আপনার অ্যাকাউন্টটি মনিটাইজেশন করতে হবে ।এটা হচ্ছে ইউটিউব বা ফেসবুক থেকে অর্থায়ের জন্য তালিকাভুক্ত হওয়া।

ফেসবুকে চাইলেই এই মনিটাইজেশন করা যায় না ।যেমন ইউটিউবের ক্ষেত্রে আপনাকে ইউটিউব পার্টনারশিপ প্রোগ্রামে অংশ নিতে হবে। এজন্য চ্যানেলের কমপক্ষে এক হাজার সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে ।সর্বশেষ ১২ মাসে চ্যানেলের ভিডিও মিলে কমপক্ষে ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম রেকর্ড থাকতে হবে। ইউটিউব চ্যানেলের সাথে একটি গুগল এডসেন্স অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত থাকতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করা হলে আবেদন করার পর আপনি ইউটিউব থেকে বিজ্ঞাপন পেতে শুরু করবেন ।ইউটিউব সিপিএম বা কষ্ট পার মাইলস থাউজেন্ডের হার এবং সিপিসি বা কস্টপার ক্লিকের ভিত্তিতে টাকা দেয় ।কন্টেন্ট ভিউ ইত্যাদির ভিত্তিতে সিপিএম রেটও উঠানামা করে ।মনিটাইজেশন পেতে হলে ফেসবুকের পাতায় আগে থেকে বেশ কিছু ভিডিও আপলোড করতে হবে। সব ভিডিও কমপক্ষে তিন মিনিটের লম্বা হতে হবে এবং ভিডিও অন্তত এক মিনিট ধরে দেখার রেকর্ড থাকতে হবে। ভিডিও গুলো মিলে কমপক্ষে ৩০ হাজার ভিউ থাকতে হবে, ফেসবুক পাতার কমপক্ষে ১০০০০ ফলোয়ার থাকতে হবে।

সংশ্লিষ্ট দেশ ও ভাষা ফেসবুকের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে হবে। বাংলাদেশ ও ভাষা ফেসবুকে সমর্থন করে। ছবি বা ভিডিও কনটেন্ট থাকতে পারবে না যেগুলো ফেসবুকের নীতিমালা ভঙ্গ করে। বিশেষ করে কনটেন্ট এমন হতে হবে যেন সবাই দেখতে পারে ।এগুলো করা হলে আপনার ফেসবুক পাতাটি অ্যাড ব্রেকের জন্য উপযুক্ত হবে। তখন  সনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন সংযুক্ত করে আবেদন করলে ফেসবুক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার কনটেন্ট যাচাই করে দেখবে। বিশেষ করে দেখা হবে এগুলো আসল নাকি কোথাও থেকে নকল করা হয়েছে।সব ঠিক থাকলে ফেসবুক মনিটাইজেশন খুলে দেবে। আপনি বিজ্ঞাপন পাবেন এবং সেটা পছন্দ মত স্থানে বসাতে পারবেন। ফেসবুকে অনেক পেজ আছে লাখ লাখ লাইক কিন্তু তারা মনিটাইজেশন পায়নি। আবার কোন পাতা আছে হয়তোবা তিরিশ হাজার লাইক নিয়ে মনিটাইজেশন পেয়েছে ।এটা আসলে নির্ভর করে তারা ফেসবুকের শর্ত গুলো কতটা ভালোভাবে পূরণ করতে পেরেছে। কন্টেন্টের ধরন, সেটা দেখার প্রবণতা  ,দেশ ইত্যাদি । ইউটিউব বা ফেসবুক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিজ্ঞাপন গুলো দেবে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিজ্ঞাপন ইউটিউব কে দেয়, ইউটিউব আবার সে সব পণ্যের সম্ভাব্য বাজার বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ভিডিওতে বিজ্ঞাপন সরবরাহ করে।

পরিসংখ্যানের তথ্য অনুযায়ী 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ফেসবুকে প্রতি ১০ লাখ ভিউয়ে আয় হয় গড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ ডলার। অন্যদিকেএকই ভিউ থেকে ইউটিউবে আয় দাঁড়ায় প্রায় দুই হাজার ডলারের বেশি ।ফেসবুক মনিটাইজেশনের জন্য রয়েছে একাধিক টুল যেমন স্টা ইন, ভিডিও পার্সেস ও ব্রান্ড কলাবরেশন। অন্যদিকে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের আওতায় কনটেন্ট নির্মাতারা আয় করতে পারেন ইন -স্ট্রিম অ্যাড, স্পন্সর শীপ  ,সুপার চ্যাট ডোনেশন এবং চ্যানেল মেম্বারশিপ এর মাধ্যমে ।মনিটাইজেশন পাওয়ার নিয়ম রয়েছে ভিন্নতা। ফেসবুকে চ্যানেল মনিটাইজ করতে হলে সাধারণত ১০ হাজার পেজ লাইক এবং শেষ ৬০ দিনে অন্তত ৩০ হাজার মিনিট ভিউ থাকা জরুরি। ইউটিউবে মনিটাইজেশন পেতে হলে নূন্যতম ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার এবং ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম থাকতে হয়। এক্ষেত্রে নিজস্ব থাকা বাধ্যতামূলক ।বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়ের দিক থেকে ইউটিউব স্পষ্টভাবেই ফেসবুকের চেয়ে এগিয়ে। কারণ প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবহারকারীর এনগেজমেন্ট ও ভিউ টাইম তুলনামূলকভাবে বেশি। পাশাপাশি ভিডিও কন্টেন্টের উচ্চতর ডেটা ব্যবহারের কারণে বিজ্ঞাপনের হারও ইউটিউবে বেশি।

ফটো আর ভিডিও এডিটিং দক্ষতা ইউটিউব আর ফেসবুকে গ্রাহক বাড়ানোর জন্য জরুরী

চ্যানেলের  সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা মোট কতজন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। যদি তারা চ্যানেলটি নিয়মিত না দেখেন ।চ্যানেলের আয় নির্ভর করে বিজ্ঞাপনের উপর ।চ্যানেলের ভিউ যত বাড়বে চ্যানেলটি ইউটিউব থেকে তত বেশি বিজ্ঞাপন পেতে শুরু করবে। আর আয় তত বাড়বে ইউটিউব বিডি আসার পর এ ধরনের কনটেন্ট থেকে আয়ের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে আগে দেখা যেত বাংলাদেশের কনটেন্টে ১ লাখ ভিউয়ের জন্য ২৫ ডলারের মত পাওয়া যেত। এখন সেটা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ইউটিউবের নিয়ম অনুযায়ী ৮ মিনিটের কম ভিডিওতে যে পরিমাণ অর্থ আসে, আট মিনিটের বড় ভিডিওতে তার প্রায় দ্বিগুণ অর্থ পাওয়া যায়। ফেসবুকেও তিন মিনিটের বড় ভিডিও গুলোই বেশি অর্থ আয় হয় ।এক মিনিটের ভিডিওতে বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়. তবে তার অর্থমূল্য কম ।একই ভিডিও একই সাথে ফেসবুক ও ইউটিউবে শেয়ার করা যায়। সাধারণত সব ইউটিউবার এটা করে থাকেন। সেখানে মানুষ কতটা দেখছে কতক্ষণ ধরে দেখছে এর উপর বিজ্ঞাপন বাড়ে বা কমে। 

১০ মিনিটের একটা ভিডিও যদি গড়ে পাঁচ থেকে ছয় মিনিট করে দেখা হয় তাহলে ১ লাখ ভিউ হলে ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা আয় হতে পারে। তবে ৮ মিনিটের নিচে হলে আয় অর্ধেক হয়ে যাবে। ইউটিউব, ফেসবুকে যে ভিডিও মানুষ যত বেশি দেখবে সেটা দিয়ে তত আয় হবে। ফলে এখন দেখা যায় অনেকেই নানা ধরনের ব্লগিং ভিডিও করছেন। নানা বিষয় নিয়ে রিভিউ বানাচ্ছেন। ফেসবুকে নিজের পাতার বিজ্ঞাপন বা বুষ্টিং করা যায়। বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ারের মাধ্যমে লাইক বা জনপ্রিয়তা বাড়ানো যায়। এভাবে যত বেশি মানুষ ভিডিও দেখবে আপনার আয় তত বাড়বে। আপনার যেটা থাকা দরকার সেটা হলো ক্রিয়েটিভিটি, মোবাইলটা ইউজ করতে জানা , ভিডিও এডিট করতে জানা , কোনটা ভাইরাল হবে কোনটা হবে না সেটা বোঝা , মানে মার্কেটটা কে বোঝা ।দেশি স্পন্সরের মাধ্যমেও এখন ইনকাম করার সুযোগ আছে। ইউটিউব আর ফেসবুকে এক্ষেত্রে   আয় টা দুইভাবে আসে। একটা ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে সরাসরি টাকা ইনকাম। আর একটা হচ্ছে স্পন্সর শীপ। বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান এখন এভাবে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে ।ইউটিউব বা ফেসবুক থেকে পাওয়া অর্থ বের করাকে বলে পে আউট ।ফেসবুকের মনিটাইজেশন চালু করার সময় ব্যাংক হিসেবে তথ্য দিতে হয় ।একটা নির্দিষ্ট ভিউ হওয়ার পর প্রতি মাসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই অ্যাকাউন্টের অর্থ জমা হয় এটা  পেপালের মাধ্যমেও তোলা যায়। তবে ইউটিউব এর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০০ ডলার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ১০০ ডলারের বেশি হলে সেটা গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে নিজের ব্যাংক হিসেবে হস্তান্ত করা হয়। বাংলাদেশে এখনো ইউটিউবে বা ফেসবুকে কনটেন্ট তৈরির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা বা নিয়ম-কানুন নেই ।তবে আইনবিরোধী কিছু করা হলে সেটা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টর আওতায়  পড়তে পারে।

ফেসবুকঃ দ্রুত সাফল্য কিন্তু বেশ রিস্ক

যারা অল্প সময়ে বেশি ভিউ ফলোয়ার ও আয় করতে চান তাদের জন্য ফেসবুক ভালো অপশন হতে পারে। ফেসবুকে ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়। যেমন মাত্র ৫ হাজার ফলোয়ার থাকলেও একটি ভিডিও দশ থেকে ত্রিশ মিলিয়ন পর্যন্ত ভিউ পেতে পারে। ফেসবুকের অ্যালগরিদম এমন ভাবে কাজ করে যে ভিডিও শেয়ার করলে তার দ্রুত বিস্তৃত হয় ।তবে ফেসবুকে রিস্ক বেশি ।কপিরাইট ইস্যু মিউজিক ব্যবহার বা অন্য কেউ ক্লেইম করলে মনিটাইজেশন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং রিকভারের সুযোগ অনেক কমে থাকে।অনেক সময় ইনকাম হঠাৎ শূন্যের কাছাকাছি নেমে যায় যা ফেসবুকের ক্রিয়েটরদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।

ইউটিউবঃ ধীরে কিন্তু স্থায়ী সাফল্যের প্ল্যাটফর্ম

ইউটিউব সাফল্য আসতে সময় লাগে কিন্তু লাভ অনেক বেশি স্থায়ী হয়। এখানে ভিডিওর গুনগত মান ও এসইও গুরুত্বপূর্ণ। ইউটিউব এ রাতারাতি ভাইরাল হওয়া কঠিন তবে একবার রেংকিং ভালো হলে লং টার্ম ভিউ ইনকামের সম্ভাবনা থাকে। ইউটিউবে কপিরাইট ও মনিটাইজেশন নীতিমালা ফেসবুকের তুলনায় অনেক বেশি ক্রিয়েটর ফ্রেন্ডলি। ওয়ার্নিং সিস্টেমের মাধ্যমে ক্রিয়েটরদের সুযোগ দেয়া হয় আপিল করার, যা সফল হলে চ্যানেল রক্ষা পায়। 

ফেসবুক মনিটাইজেশন

সাধারণত ১০ হাজার পেজ লাইক ফলোয়ার এবং শেষ ৬০ দিনে কমপক্ষে ৩০ হাজার মিনিট ভিউ হলে পেজ মনিটাইজেশনের যোগ্য হয়। এছাড়াও স্টারস ইন ভিডিও ,পার্সেস  ,ব্রান্ড কোলাবোরেশন  মতো একাধিক টুলস রয়েছে।

ইউটিউব মনিটাইজেশন

এখানে মনিটাইজেশনের জন্য অন্তত ১০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ টাইম লাগবে। ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইনস্ট্রিম অ্যাড, স্পন্সরশীপ , সুপার সেট ডোনেশন , চ্যানেল মেম্বারশিপ সহ নানা মাধ্যমে আয় করা সম্ভব।

কনটেন্ট ক্রিয়েশনে সঠিক প্ল্যাটফর্ম বাছাই

  • অল্প সময়ে ইনকাম সাফল্য চাইলে ফেসবুকের শর্টস বা রিলস ভিডিও তৈরি করুন।
  • মান-সম্পন্ন ভিডিও বানাতে চান এবং স্পন্সর শিপ  চান তাহলে ইউটিউবকে বেছে নিন।

ইনকাম এর পার্থক্য- ফেসবুক বনাম ইউটিউব

ফেসবুকে ১০ মিলিয়ন ভিউ থেকে পাওয়া আয় অনেক বেশি হতে পারে, কারণ ভিউ সংখ্যা অসংখ্য । ইউটিউবে প্রতি ১ লাখ ভিউ থেকে আয় তুলনামূলক বেশি কিন্তু ভিউ পাওয়া তুলনামূলক কঠিন। ভিডিওতে বেশি টাকা দেয়, যেখানে ইউটিউবে লং ভিডিও থেকে আয় বেশি। ইউটিউব স্পন্সর শিপ ও ব্রান্ড ডিল পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সুযোগ দেয়। কারণ ইউটিউবের ভিডিও গুলো পুরোপুরি দেখলে আয় বেশি হয়। 

ভিডিও কনটেন্ট ক্যাটাগরি ও প্লাটফর্মের পছন্দ

  • ফেসবুকে বিনোদনমূলক ফানি ক্লিঅ, নাটক , শর্টসফিল্ম , রিয়েকশন ভিডিও , ট্রেনডিইং টপিক , নিউজ ভিডিও বেশি চলে।
  • ইউটিউবে গাইডলাইনস প্রোডাক্ট রিভিউ, শিক্ষামূলক ভিডিও , ডকুমেন্টারি ব্লগিং , পডকাস্ট এবং দীর্ঘ ফরমেট এর ইনফরমেটিভ ভিডিও বেশি জনপ্রিয়।

আমাদের শেষ কথাঃ ফেসবুক নাকি ইউটিউব কোনটি আয় বেশি জেনে নিন

ফেসবুক থেকে কিভাবে কোন উপায়ে আয় করা যাবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। অপরদিকে ইউটিউব থেকে কিভাবে ইনকাম করা যাবে কোন উপায়ে ইনকাম করা যাবে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ফেসবুক এবং ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য ইউটিউব কর্তৃপক্ষ এবং  সকল দিক থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, ফেসবুকের থেকে ইউটিউব বেশি এগিয়ে। কারণ ইউটিউব এর মনিটাইজেশন অতি দ্রুত করা যায় কিন্তু ফেসবুকের মনিটাইজেশন পেতে একটু কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়ের দিক থেকে ইউটিউব স্পষ্টভাবে ফেসবুক এর চেয়ে এগিয়ে। প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবহারকারীর এংগেজমেন্ট ও ভিউ টাইম তুলনামূলকভাবে বেশি, পাশাপাশি ভিডিও কনটেন্টের উচ্চতর ডাটা ব্যবহারের কারণে বিজ্ঞাপন আয়ের হারও ইউটিউবে বেশি।

এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।কোন প্রকার ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এই আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার মূল্যবান মতামত আমাদের আরো ভালো কনটেন্ট লিখতে অনুপ্রাণিত করবে ।আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করবেন ।সবশেষে সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করে এখানে শেষ করছি  ,আল্লাহ হাফেজ ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url